Card image cap

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি সাধনে আ্যালামনাইরা যে ৫টি ভূমিকা রাখতে পারে

আ্যালামনাইয়ের বাংলা প্রতিশব্দ হলো প্রাক্তন। যারা কোন স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে বের হয়েছেন তাদেরকে আ্যালামনাই বলা হয়। আমরা আজকে যেই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছি সেখানে বিগত বছরগুলোতে যারা পড়াশোনা করেছে অর্থাৎ আমাদের বড় ভাইয়া-আপুদেরই আ্যালামনাই বলা হয়। আজকে আমরা যেই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান শিক্ষার্থী কয়েক বছর পরে আমরা সেই প্রতিষ্ঠানের আ্যালামনাই বা প্রাক্তন শিক্ষার্থী হয়ে যাবো। স্বাভাবিক ভাবেই এই অ্যালামনাইদের সংখ্যা অনেক বেশি। দেশ-বিদেশেদের আনাচে কানাচে তারা ছড়িয়ে আছেন।
স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে যে যার ক্যারিয়ারের দিকে এগিয়ে যায় এবং নিজের অর্জিত জ্ঞান সমাজ বিনির্মাণে ও দেশের উন্নতি সাধনে ব্যবহার করে। শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। যেহেতু আ্যালামনাইদের দেশে ও বিদেশে অবাধ বিচরণ সেহেতু আমরা তাদের দ্বারা বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা লাভ করতে পারি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি সাধন করতে পারি।

বৃত্তি প্রদান

বাংলাদেশের অনেক মেধাবি, অস্বচ্ছল ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের আর্থিক ভাবে সহায়তা প্রয়োজন। আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের দৈনন্দিন চাহিদা পূরর্ণের জন্যে পার্টটাইম জব, টিউওশনি বা কোচিং সেন্টারগুলোতে ক্লাস নিয়ে থাকে। এতে করে তাদের নিজেদের পড়াশোনার জন্য সময় থাকে না। আ্যাকাডেমিক পড়াশোনায় তারা পিছিয়ে পড়ে।তাছাড়াও অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষার্থীরা রোজগারের কোন উপায় বের করতে পারে না এবং হতাশায় ভোগে। পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পড়াশোনার মান দিন দিন কমে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে পড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকার থেকে যেই বৃত্তি প্রদান করা হয় তা যথেষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, কোন নিদিষ্ট একজন ব্যক্তি কিংবা সরকারের একার পক্ষে এই বিশাল পরিমাণ শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা সম্ভবও নয়। এই ক্ষেত্রে আ্যালামনাইরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আ্যালামনাইদের সংখ্যা অনেক এবং তাদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থানরত আছে। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থানরত এবং তুলনামূলক আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল আ্যালামনাইদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা যায়। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আ্যালামনাই এসোসিয়েশন এই উদ্দ্যোগ নিয়েছেন এবং বেশকিছু শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করেছেন। এই উদ্দ্যোগটি যদি বহাল থাকে এবং প্রতি বছর বৃত্তি প্রদান করে তাহলে অনেক শিক্ষার্থীর সমস্যা দূর হবে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারবে। এভাবে দেশের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বা আ্যালামনাইরা যদি এই উদ্যোগ নেন এবং মেধাবী, অস্বচ্ছল ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করেন তাহলে শিক্ষার্থীরা উপকৃ্ত হবে।দৈহিক চাহিদা মেটাতে টাকা রোজগারে ঝুকে না পড়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারবে। ফলতঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার মানও বাড়বে।

অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের মাধ্যমে সহযোগিতা প্রদান


স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বা অ্যালামনাইরা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করে আন্তঃসংযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সুসম্পর্ক ও সহযোগীতার মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে অ্যালামনাইরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজে সহায়তা করতে পারে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে পারে।যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী সামাজিক কিংবা স্বাস্থগত বিপর্যয়ে পড়লে তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে পারে।
এছাড়াও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করতে পারে যেগুলোতে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারে। বিভিন্ন কারিগরী কর্মশালা অনুষ্ঠিত করে পারে। যা ইতোমধ্যে বুয়েট অ্যালামনাইরা করেছে যাতে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে এবং উপকৃ্ত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি ও র‍্যাংকিং

প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাই এর অতীত সাফল্যের ধারক ও বাহক হয়। এরাই বর্তমানকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে আ্যাকাডেমিক খ্যাতি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে প্রাক্তন শিক্ষার্থী বা আ্যালামনাইরাও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। আ্যালামনাইরা দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকে। তাদের সংখ্যাও অনেক। প্রত্যেকে তাদের অর্জিত জ্ঞান সমাজের কল্যাণে ব্যয় করে এবং সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি বাড়িয়ে তোলে। ফলত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক র‍্যাংকিং এ থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বা অ্যালামনাই আছে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা অর্জনেরর জন্য যায়।অনেক ক্ষেত্রে তারা অনেক ভালো ফলাফল করে যা তার বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব বয়ে আনে।বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চর্চা হয়। ফলে বিশ্ব র‍্যাংকিং এ আরেক ধাপ এগিয়ে যায়। এভাবে ব্যাক্তিগত সাফল্যের মাধ্যমে আ্যালামনাইরা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি বাড়িয়ে তোলে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাংকিং এ থাকার সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তোলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আ্যালামনাইরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রখর থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তাঁদের কাছে অনেকটা নিজের বাড়ির মতন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পরিবারের সদস্যদের মতন। তাই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন কাজে সাহায্য করতে সদা প্রস্তুত থাকে। বড় ভাই হিসেবে তারা বর্তমান শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবে সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করে। আ্যালামনাইরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকে। অনেকেই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকে ফলে তারা সহজেই উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আর্থিক সহায়তা প্রদান,বা জেট পাশ বা উত্থাপনের মাধ্যমে উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে। আ্যালামনাইরা সহায়তা ছাড়া উন্নয়ন কাজে বেগ আসবে না। ধীরস্থির হয়ে যাবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা আমাদের সকলেরই জানা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে পড়বে। যুগের সাথে তাল মেলাতে পারবে না। তাই বলা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আ্যালামনাইরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনমূলক সমালোচনা

গঠনমূলক সমালোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি ব্যপার। গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে কোন ভুল শুধরে দেয়া যায় এবং সেই ভুল শুধরে নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা যায়।
অ্যালামনাইরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় কাজে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করতে পারে। প্রশাসনের কোন কাজ বা সিদ্ধান্ত তাদের পছন্দ না হলে তারা সেই কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারে এবং সমাধানের পথ দেখিয়ে দিতে পারে।বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ আ্যালামনাইদের গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারে। এভাবে অ্যালামনাইরা গঠননূলক সমালোচনা করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজের গতিময়তা বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সময়টি জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এইসময়ে শিক্ষার্থীরা ভালো-মন্দ সব মিলে জীবনের এক পর্যায় থেকে আরেক পর্যায়ে উন্নিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সহচর্যে আসতে পারে। তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা সহযে বলতে পারে এবং শিক্ষকদের সাহায্য নিয়ে সমস্যা সমাধান করতে পারে। শিক্ষকরাও নিজেদের অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দেন।শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন।এভাবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মাঝে একটি আত্মিক বন্ধন গড়ে ওঠে। শুধু শিক্ষকদের সাথেই নয় সহপাঠী, সিনিয়র, জুনিয়র সবার সাথেই একটি আত্মিক বন্ধন গড়ে ওঠে।একটি পরিবারের মতন হয়ে যায়। পড়াশোনা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীরা এক মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।সুযোগ পেলেই ছুটে যায় নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্মৃতিচারণ করতে। সময়-সুযোগের অভাবে ক্যাম্পাসে যেতে না পারলেও অন্তত নিয়মিত খোঁজ খবর রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সমস্যা হলে সেই সমস্যা হয়ে ওঠে তাদের সমস্যা। নিজেদের সর্বাত্মক দিয়ে তারা সহায়তা করার চেষ্টা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উপদেশ দিয়ে থাকে। অ্যালামনাইরা অ্যালামনাই আ্যাসোসিয়েশন গঠন করার মাধ্যমেও তাদের সহযোগিতার দ্বার খুলে দিয়েছেন। এভাবে আ্যালামনাইরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। .

About Graduate Network

Graduate Network is the vision of some influential alumni, scholars, community leaders from different alumni associations, universities, & organizations for them and for you.