Card image cap

প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে অ্যালামনাইদের সাথে যোগাযোগকে আরো সহজ করবেন?

একটি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীর গ্রাজুয়েশন নিঃসন্দেহে একজন শিক্ষার্থীর জন্য একই সাথে সবচেয়ে আনন্দের এবং কিছুটা কষ্টেরও একটি ঘটনা। একদিকে গ্রাজুয়েশন যেমন তার সফলতার সাক্ষী, তেমনি প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কের ইতি টানারও একটি ঘন্টাধ্বনি বাজিয়ে দেয়। কিন্তু গ্রাজুয়েট হয়ে গেলেই কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সব সম্পর্ক শেষ? ক্যাম্পাস কি শুধুই ক্যারিয়ার তৈরির জায়গা? মোটেও তা নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে, ক্যাম্পাসের সাথে স্মৃতি থেকে যায় সারাজীবন। ভালোবাসার টানে সাবেক ছাত্রছাত্রীরা বারবারই ছুটে আসেন ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাসের সাথে সাবেক শিক্ষার্থীদের অর্থাৎ অ্যালামনাইদের সম্পর্কের তুলনা বিরল।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে এই প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গভীর সম্পর্কের ফলে সব প্রতিষ্ঠানেই অ্যালামনাইদের বিভিন্ন সংগঠন থাকে। তারা সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরাসরি এবং পরোক্ষ বিভিন্ন অবদান রাখে। অ্যালামনাইরা চায় তাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকতে। হতে পারে সেটা ভালোবাসা, আবেগ ও স্মৃতির কারণে। অথবা প্র্যাক্টিকাল বিষয়বস্তু যেমন, ক্যারিয়ার বা জব, ব্র্যান্ডিংয়ের কারণে। এসব কারণে অ্যালামনাইদের নিজেদের সাথে আর বর্তমান ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ করা, নেটওয়ার্ক করা খুব জরুরি। এই নেটওয়ার্ক তৈরি করা আপনি যতটুকু ভাবছেন তার চেয়েও অনেকটা সহজ। তাছাড়া বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা পূর্বের চেয়ে অনেক উন্নত, আপনার শিক্ষাজীবনের যে কোন পর্যায়ের অ্যালামনাইদের সাথে যোগাযোগ করতে আগের মত এতো বাধা বিপত্তিও নেই। তাই আপনি চাইলেই কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ অনুসরণ করে অ্যালামনাইদের সাথে যোগাযোগ করা শুরু করতে পারেন। এখানে আপনি অ্যালামনাইদের সাথে সহজে যেভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন এমন পাঁচটি উপায় তুলে ধরা হলো।

১. প্রধান প্রধান সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর মাধ্যমে

বর্তমানে ফেসবুক টুইটার ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত থাকে। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমিউনিকেশন করা যে তুলনামূলক সহজ তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। ফেসবুক বা টুইটারে অ্যালামনাইরা নিজেদের মধ্যে যুক্ত থাকার সম্ভাবনা অনেক। এমনকি তাদের খুঁজে পেতে পারেন আপনার প্রতিষ্ঠানের কোন পাবলিক গ্রুপ বা তাদের কোন আনঅফিশিয়াল গ্রুপে। এছাড়া বর্তমানে রয়েছে লিংকড-ইনের মতো প্ল্যাটফর্মস। এধরণের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সেক্টরের অ্যালামনাইদের খুঁজে পেতে পারেন। এভাবে বর্তমান প্রযুক্তির আশীর্বাদগুলো ব্যবহার করুন। এবং যখন তাদেরকে আপনি খুঁজে পাবেন, সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে সহজেই তাদেরকে আপনার অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক এ যুক্ত করতে পারবেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এ বা অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আপনি যে এলামনাইদের সাথে যুক্ত হতে চান তাদের সাথে বিস্তারিত কথা বলুন। তাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে জানতে চান, আপনার প্রতিষ্ঠান নিয়ে কথা বলুন। অবশ্যই নিজের সম্পর্কে এবং আপনাদের ভিতরে কমন যেসকল বিষয় রয়েছে সেসব নিয়ে কথা বলে তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন। এরপর আপনি ধীরে ধীরে তাদের পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কাজে ইনভলভ করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত করে তুলুন।

২. অ্যালামনাইদের সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য ব্যবহার করুন

যেকোনো প্রতিষ্ঠানেরই তাদের শিক্ষার্থীদের আপ টু ডেট ডাটা ও ইনফর্মেশন সংগ্রহ করে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এধরনের ব্যবস্থা শুধু যে তারা শিক্ষার্থী থাকাকালীন সময়েই কাজে আসে তা নয় বরঞ্চ তারা গ্রাজুয়েট হয়ে যাবার পর আরেকটি কারণ যুক্ত হয় এই তথ্যগুলোর গুরুত্বের খাতায়। তাদের বর্তমান ঠিকানা, যোগাযোগের উপায়, ক্যারিয়ার নিয়ে গোল বা প্ল্যানিং, টার্গেট কর্মক্ষেত্র, তার স্কিলস ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য রাখুন। এসব তথ্য এনালাইজ করার মাধ্যমে আপনি আপনার টার্গেট গ্রুপের বর্তমান শিক্ষার্থীদের লিস্ট করে সাজিয়ে রাখতে পারবেন এবং এর সাথে সাথে ভবিষ্যতে তাদের কে সহজে খুঁজে বের করে যোগাযোগ করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি হয়তো মেন্টরশিপ এর জন্য কোন এলামনাই কে খুঁজছেন, সেক্ষেত্রে একজন সফল ও পূর্বে মেন্টরিং করেছে বা লিড দিতে সক্ষম এমন কোন এলামনাইয়ের তথ্য আপনার কাছে থাকলে আপনি সহজেই তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। অথবা এমন হতে পারে যে আপনি কোন প্রকল্পের জন্য ফান্ড রেইজিং করছেন, সেক্ষেত্রে আপনি একজন ডোনার বা অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম কোন এলামনাই এর এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। মোটকথা আপনার কাছে ডাটা থাকলে ও নির্দিষ্ট গোল থাকলে আপনি সহজেই একজন এলামনাই এর সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য পদক্ষেপ নিতে পারেন।

৩. মাসিকপত্র বা নিউজলেটার পাঠানোর মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন

অ্যালামনাইদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের একটি অন্যতম উপায় হতে পারে তাদেরকে ক্যাম্পাস নিউজলেটার পাঠানো বা প্রাতিষ্ঠানিক মাসিকপত্র পাঠানো। সকল প্রতিষ্ঠানেই তাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ঠিকানা, যোগাযোগের উপায় থাকে, হতে পারে সেটা ডিজিটাল বা অফলাইন। ডিজিটাল মাধ্যম যেমন ইমেইলে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে একটি করে নিউজলেটার পাঠান আপনার কাঙ্ক্ষিত অ্যালামনাই গ্রুপকে।
মান্থলি নিউজলেটার শুধু যে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরই পাঠানোযাবে এমনটা নয়। আপনার প্রতিষ্ঠানের নিউজলেটার স্টাফস, শিক্ষার্থীদের মাঝেও দিতে পারেন, এতে তারাও আরো জড়িত হতে পারবে এবং ভবিষ্যতে যা বিভিন্ন সুফল বয়ে আনতে পারে। সাম্প্রতিককালের অ্যালামনাইদেরকে আপনি সহজেই ইমেইলে একটি ই-নিউজলেটার পাঠাতে পারছেন এবং যাদের সাথে অনলাইনে যোগাযোগ সম্ভব নয় তাদেরকে ডাক বা অন্যান্য অফলাইন সার্ভিসের মাধ্যমে, বা তাদের বর্তমান কর্মস্থল যদি জানা থাকে সেখানে পাঠিয়ে দিতে পারেন। এভাবে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ নিয়মিত থাকলে তারাও আপনার যোগাযোগে সাড়া দিবে।

৪. অ্যালামনাইদের হাইলাইট করে ইভেন্ট রাখুন ও তাদের এপ্রিশিয়েট করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে মানুষ গড়ার কারিগর- কথাটি মিথ্যা নয়। সব প্রতিষ্ঠানই চায় তাদের সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীকে জীবনে সফল হিসেবে দেখতে। এবং সকল প্রতিষ্ঠান থেকে নিশ্চয়ই এমন কিছু ছাত্ররা বের হয় যারা ব্যক্তি জীবনে অনেক সফল বা তাদের অনন্য কোন অর্জন রয়েছে। এছাড়া অনেক ছাত্র শিক্ষাজীবনে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অবদান রাখে ও প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন সুনাম অর্জন করে। এ ধরণের ছাত্রদের হাইলাইট করে আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট সময় পর পর ইভেন্ট পরিচালনা করতে পারেন। এতে একই সাথে তাদের এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচার চালাতে পারেন এবং এটি হতে পারে অনন্য কিছু প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করার একটি কার্যকরী উপায়। কারণ নিজেদের দক্ষতা ও অর্জনের সুনাম পেতে সবাই ভালোবাসে। পরবর্তীতেও তারা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রাখবে এবং এভাবে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন। তাদের বর্তমান কর্মক্ষেত্র বা সফলতা থাকলে সেসবকে গুরুত্ব দিন। এভাবে আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে তারা অ্যাপ্রিশিয়েট হলে তারাও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আরো উৎসাহী হয় এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন সাহায্যেও এগিয়ে আসতে পারে।

৫. প্রতিষ্ঠান থেকে ইভেন্টে ডাকুন, ম্যাগাজিন বা পত্রিকা পাঠান

প্রতিষ্ঠান থেকে কোন ত্রৈমাসিক বা কোন নিয়মিত ম্যাগাজিন বের হলে তা অ্যালামনাইদের নিকট পৌঁছে দিন। তাদের ক্যাম্পাস এর বর্তমান হালচাল, বর্তমান শিক্ষার্থীদের কার্যকলাপ ইত্যাদি আপনার ম্যাগাজিন এর মাধ্যমে তাদের সামনে এসে পড়বে। তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা, স্মৃতি ও আবেগ নস্টালজিয়া তৈরি করবে। কারণ একটা সময়ে তারাই এধরণের ক্রিয়ার সাথে যুক্ত ছিলো। এভাবে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তাদের আগ্রহও যেমন বাড়বে তেমনি আপনার তাদের সাথে যোগাযোগ এর রাস্তও খুলে যাবে।
এছাড়া ইভেন্টের মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ করা যায়। যেমন স্টুডেন্ট অ্যালামনাই মেন্টরিং প্রোগ্রাম। আপনার প্রতিষ্ঠান বর্তমান শিক্ষার্থীদের সাথে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের যোগসুত্র স্থাপনের জন্য এটি যেমন একটি কার্যকরী উপায় হতে পারে তেমনি প্রতিষ্ঠান সাথে এলামনাই স্টুডেন্টদের যোগাযোগের ও একটি উপায় হতে পারে। এর মাধ্যমে এলামনাইরা যেমন সম্মানিত হিসেবে প্রতিষ্ঠানে পরিচিতি পাবে তেমনি নির্দিষ্ট সেক্টরের বর্তমান স্টুডেন্টরাও কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবে। একই সাথে বিভিন্ন ওয়ার্কশপ এর আয়োজনে অ্যালামনাইদের আহ্বান করতে পারেন। এতে করে আপনার প্রতিষ্ঠান এর ভাবমূর্তি যেমন উন্নত হবে তেমনি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের সাথে কানেক্ট করতে সক্রিয় হবে। এভাবে বর্তমান স্টুডেন্ট ও প্রাক্তন স্টুডেন্ট দের মিলে আপনার প্রতিষ্ঠান এ একটি অনন্য নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।
বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, প্রতিষ্ঠানের অ্যালামনাইদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ থাকলেও প্রতিষ্ঠানের সাথে তাদের যোগাযোগ কমে যায়। এমনকি সর্বোচ্চ কানেক্টিভিটি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একটি অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক গঠন করা একটি অনেক বড় চ্যালেঞ্জিং বিষয় হতে পারে। এর কারণ হলো একদিকে যেমন প্রতিষ্টগান থেকে সঠিক পদক্ষেপের অভাব এবং সাথে সাথে অনেকেই তাদের ব্যক্তিজীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যায় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলে। কিন্তু একটি নিয়মিত যোগাযোগ রাখার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক আরো উন্নত করে সম্ভব। শুধু সম্পর্ক উন্নয়ন যে হবে তাই নয়, আপনার প্রতিষ্ঠান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষার্থী সকলের জন্যই এটি ইতিবাচক ভুমিকা রাখে। আর কিছু সঠিক ইনিশিয়েটিভ গ্রহণ করলেই পুরনো ছাত্রদের সাথে প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

About Graduate Network

Graduate Network is the vision of some influential alumni, scholars, community leaders from different alumni associations, universities, & organizations for them and for you.