Card image cap

প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আপনার সেরা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতিনিধিত্ব করে মূলত তার শিক্ষার্থীরাই। বর্তমান শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান থেকে যে অভিজ্ঞতা নিয়ে বের হয় অ্যালামনাই শিক্ষার্থী হয়ে তারা তাই ধারণ করে থাকে। সব প্রতিষ্ঠানেরই অ্যালামনাই শিক্ষার্থীদের সাথে একটি ভালো সম্পর্ক থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালামনাইরা প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ একটি সুন্দর সম্পর্ক তৈরির পাশাপাশি আপনার প্রতিষ্ঠানের কাছে অ্যালামনাই এর গুরুত্ব এবং অ্যালামনাইদের কাছে আপনার প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব বজায় রাখে। আর আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করতে শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীরাই নয়, প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।
কল্পনা করুন, বিশ্বের কাছে আপনার প্রতিষ্ঠানের বর্তমান শিক্ষার্থীরা নানাভাবে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে, আপনি তাই বর্তমান শিক্ষার্থীদেরকে তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। এখন ভাবুন এই সংখ্যা যদি আরো বহুগুণে বেড়ে যায় তাহলে কেমন হবে!
আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরও আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছে। তাই অবশ্যই এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রুপান্তর করা সম্ভব। বরং আপনার প্রতিষ্ঠানের অ্যালামনাইদের আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বানানোই বেশি জরুরি। কেননা একজন অ্যালামনাই এর কাছে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হওয়ার জন্য রয়েছে একটি পূর্ণ বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং এজন্য তাদের কাছ থেকে পাওয়া আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতিমূর্তি সকলে গ্রহণ করে। তাই বর্তমান শিক্ষার্থীদের সার্বিকভাবে ভালো অভিজ্ঞতা দেয়ার পাশাপাশি যখন তারা প্রাক্তন শিক্ষার্থী হয়ে উঠবে তখন তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ও তাদেরকে প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত রাখা উচিত। এভাবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠতে পারে আপনার প্রতিষ্ঠানের সেরা প্রতিনিধি।

কীভাবে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি বানাবেন?

অনেকক্ষেত্রেই প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিষ্ঠানের সুসম্পর্ক তৈরি করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তাদের মধ্যে যোগাযোগ, নেটওয়ার্কিং ইত্যাদি ভালো হয় না। এভাবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরও শুধু প্রতিষ্ঠানে থাকাকালীন অভিজ্ঞতা ও আবেগ এর বাইরে কোন মন্তব্য রাখতে পারে না। তাছাড়া অনেকেই হয়তো আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদেরকে পুনরায় আপন করে নিলে চিত্রটা হতে পারে ভিন্ন। মেন্টরিং, বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, বর্তমান শিক্ষার্থীদের সাথে সুসম্পর্ক ইত্যাদি সবকিছু মিলিয়ে তারা হয়ে উঠতে পারে আপনার প্রতিষ্ঠানের সেরা প্রতিনিধি। নিচে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনন্য প্রতিনিধি বানিয়ে নেয়ার উপায়সমুহ নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি করার জন্য প্রথমে আপনার কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থীর সাথে সংযোগ স্থাপন প্রয়োজন। সেই সাথে অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক। অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য সর্বপ্রথম আপনার প্রয়োজন তাদের সাথে যোগাযোগ করা। প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার তথ্য ব্যবহার করে তাদের সাথে যোগাযোগ করার বিভিন্ন মাধ্যম আপনি পেয়ে যেতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে অনলাইন বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সাহায্যে সহজেই কাউকে খুঁজে বের করা সম্ভব। আপনার কাঙ্ক্ষিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানের সাথে বিভিন্নভাবে যুক্ত করুন। এভাবে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পুনরায় প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হতে পারবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাজে জায়গা করে নিতে পারবে। আর এভাবে একটি শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক আপনার প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও অনেকখানি বাড়িয়ে তুলবে।

ফ্যাকাল্টির সাথে সম্পর্ক ও মেন্টরিং এর দিকে নজর দিন

প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সময়ে ফ্যাকাল্টির সাথে সম্পর্ক যতো গভীর রাখে পরবর্তীতে অ্যালামনাই হিসেবে তারা তত বেশি ইতিবাচক মতামত দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নজর রাখা উচিত যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তার নিজ নিজ ফ্যাকাল্টির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। আর এ কাজে শিক্ষক বা মেন্টরদের ভূমিকা অনেক। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে শিক্ষার্থীরা অ্যালামনাই হিসেবে প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হতে ৬.৪ গুণ বেশি আগ্রহ অনুভব করে যদি তার ফ্যাকাল্টির সাথে সম্পর্ক গভীর হয়। কোন শিক্ষার্থীর সাথে ক্লাসরুমের বাইরেও সুসম্পর্ক রাখা, শিক্ষার্থীদের চাহিদা বোঝা ইত্যাদি বিষয়ে যখন কোন শিক্ষক সচেতন হয়ে থাকে তখন তারা তার ছাত্রদের স্মৃতিতে স্মরণীয় ব্যক্তিবর্গ হিসেবে চিত্রিত থাকেন। ছাত্রদের কাছে শিক্ষকদের অবদান যতো স্পষ্ট থাকে তারা ততই প্রাতিষ্ঠানিক আবেগ ধরে রাখে। এজন্য ফ্যাকাল্টির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ।
আবার অ্যালামনাই শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বা শিক্ষকদের মাধ্যমেই মেন্টরিং প্রোগ্রামের ব্যবস্থা থাকাও শিক্ষার্থীদের পরবর্তীতে গ্রাজুয়েট হয়ে যাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের প্রতি সন্তোষ বজায় থাকে, প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকতে আগ্রহী হয়, প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা প্রদান করতে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী এ ধরণের মেন্টরিং প্রোগ্রাম এর ফলে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ৪.১ গুণ বেশি পরিমানে প্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এর পিছনে অনেকেই বলে থাকে, " যখন আমার গাইড পাওয়া প্রয়োজন ছিলো আমি পেয়েছি৷ একজন মেন্টর আমাকে এ পর্যায়ে আসতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।"

অ্যাকাডেমিক অভিজ্ঞতা

"আমার কমপক্ষে একজন অধ্যাপক ছিলেন যিনি আমাকে শিখার বিষয়ে আগ্রহী করেছিলেন।", " ক্যাম্পাসের পরিবেশ আমার শিক্ষা ও সাফল্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিলো।" - এধরণের বক্তব্য আপনি অবশ্যই আপনার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছে আশা করেন। আমরা সকলেই এটি জানি যে শিক্ষা গ্রহন করা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সকলেই শিক্ষা গ্রহনে সমান অধ্যাবসায় দেখায় না। শিক্ষকের এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ সাফল্য হলো তার ছাত্রদের শিখতে আগ্রহী করে তোলা। একারণেই উপরের বক্তব্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সকলেই শিখতে চায় কিন্তু এই আগ্রহ ধরে রাখার উপায় অনেকেরই জানা থাকে না। অনেকের সাফল্যের পথ জানা থাকে না। এ বিষয়ে যদি শিক্ষকেরা তাদের উৎসাহী করতে পারেন, গাইড করতে পারেন তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে এই প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এ বক্তব্যগুলোই বাইরের জগতে আপনার প্রতিষ্ঠানের অবস্থান অনেক উপরে উঠিয়ে দিবে।
এছাড়া গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক কাজ করার সুযোগ দেয়া অনেক বড় প্রভাব রাখে। নতুন নতুন বিষয়ে ও তাদের আগ্রহ অনুযায়ী বিষয়ের উপর তাদের এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ দিন। বিষয়টি নিয়ে গভীরে যাওয়ার সুযোগ দিন। একটি সুন্দর অ্যাকাডেমিক কারিকুলাম এর পাশাপাশি এ ধরণের গবেষণামূলক সুবিধাগুলি আপনার শিক্ষার্থীদেরকে দিতে পারে অনন্য অভিজ্ঞতা।

ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করা ও সামাজিক অভিজ্ঞতা

প্রত্যেক শিক্ষার্থীই আপনার প্রতিষ্ঠানের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে উঠতে পারে। অ্যাকাডেমিক কাজের পাশাপাশি যদি আপনার প্রতিষ্ঠান তাদেরকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে সাহায্য করে তাহলে অবশ্যই পরবর্তীতে এ অবদানের কথা তাদের বক্তব্যে ফুটে উঠবে। কেননা সকলেই সফল হতে চায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই যদি তারা এ বিষয়ে পথ নির্দেশনা বা গাইডেন্স পেয়ে থাকে, বাস্তব চিত্র সম্পর্কে জানতে পারা অনেক বড় একটি সুযোগ। এটি ভবিষ্যতে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদেরকে অনুরাগী থাকতেও সাহায্য করবে। এবং শেষে আসে সামাজিক যোগাযোগ। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ রাখা উচিত। প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত জানানো, নিউজলেটার বা ম্যাগাজিন পাঠানো অ্যালামনাই ইভেন্টস, অ্যালামনাই-স্টুডেন্ট মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম, ওয়ার্কশপ করতে দেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি বিভিন্নভাবে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে সুন্দর সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব।এসব কিছুই আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য তাদের কাছে ভাবমূর্তি আরো বাড়িয়ে তুলবে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এসব বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করবে। যদি তাদের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হয়ে থাকে, প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ তাদেরকে করে তুলতে পারে আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য সেরা প্রতিনিধিদের একজন। কেননা আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে মন্তব্য রাখবে। তাই আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কাঙ্ক্ষিত অ্যালামনাইদের বেছে নেয়া হলো সবচেয়ে উত্তম পন্থা।

About Graduate Network

Graduate Network is the vision of some influential alumni, scholars, community leaders from different alumni associations, universities, & organizations for them and for you.