Card image cap

অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক থেকে কীভাবে ফান্ড রেইজ করবেন?

শিক্ষার্থীদের জন্যই তো উঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর শিক্ষার্থীদের জন্য নানান সুযোগ-সুবিধা, স্কলারশিপ, ওয়েলফেয়ার, ইভেন্ট ইত্যাদি করার প্রচুর ফান্ডিং এর প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বন্যা, ঝড়, ভূমিকম্পের মত দূর্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রাণ কর্মসূচিতে কী পরিমাণে ফান্ড দরকার হয়, তা অভাবনীয়। কলেজ - বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ফান্ডিং তো আরো বেশি প্রয়োজনীয়।
প্রতি মাসেই কোন না কোন ইভেন্ট করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেটা সাংস্কৃতিক হোক, সামাজিক কল্যাণে শীতবস্ত্র প্রদান হোক অথবা পুনর্মিলনী – সবগুলো কাজেই টাকার প্রয়োজন আছে। আর যারা এই অর্থ সংগ্রহ করে তারা ভালোভাবেই জানেন এই অর্থ সংগ্রহের কাজ কতটা চ্যালেঞ্জিং। এসব কাজে বাইরে থেকে দাতা সংস্থা বা ডোনার কমই পাওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিজেদের চাঁদা, অভিভাবকদের - কর্মচারীদের সাহায্য ইত্যাদি মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা হয়।
কিন্তু এই ফান্ড সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস প্রতিষ্ঠানের অ্যালামনাই। বিশেষ করে সায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যালামনাই সদস্যরা জুনিয়র শিক্ষার্থীদের বা নিজেদের ইভেন্ট পরিচালনায় অর্থের যোগান দিতে আগ্রহী থাকেন। কিন্তু যেহেতু একটি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অনেক বিস্তৃত, কখনো কখনো দেশে বিদেশেও ছড়ানো; সেহেতু অ্যালামনাই সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে ফান্ড সংগ্রহ সম্ভবপর হয় না। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অ্যালামনাইদের কাছ থেকে ফান্ডিং এর পরিমাণও তুলনামূলক কম হয়।
সঠিক সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে অ্যালামনাইদের কাছ থেকে নিয়মিত ফান্ডিং সংগ্রহ করা সম্ভব। আইটি খাতে বৈশ্বিকভাবে তো বটেই, দেশেও অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে যোগাযোগের সহজলভ্যতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাও আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। নিয়মিত যোগাযোগ ও ফলো আপ করার মাধ্যমে তহবিল গঠন করাও সম্ভব। এর জন্য চাই সঠিক প্ল্যানিং এবং প্রযুক্তি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপনাকে ধাপে ধাপে এগুতে হবে।

অ্যালামনাই প্রোফাইল লিস্ট করুন

সাধারণত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদের কাছেই সাবেক শিক্ষার্থীদের অ্যালামনাই তথ্য বা রেকর্ড থাকে। জেলা সমিতিগুলোর রেকর্ড এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আপনাকে প্রথমেই সাবেক ছাত্রদের একটি খসড়া তালিকা করে ফেলতে হবে। একবার এই তালিকা হয়ে গেলে অন্তত ১০ বছর এর উপকার পাওয়া যাবে। এই তালিকাকে সম্প্রসারিত করে প্রোফাইল লিস্ট করতে হবে। যেখানে থাকবে সাবেক শিক্ষার্থীদের ঠিকানা, কর্মস্থল, যোগাযোগ নম্বর, বিশেষ আগ্রহের সেক্টর ইত্যাদি। নিজেদের প্রয়োজনে অন্য অনেক তথ্যই রাখা যেতে পারে এই লিস্টে। একে ডিজিটালি আর্কাইভ করতে হবে। নাহলে তথ্য হালনাগাদ সম্ভব হবে না আর পুরো তালিকাটিই অকেজো হয়ে যাবে। ফান্ডিং এর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য দাতা প্রোফাইলগুলোকে আপনি ক্যাটাগরাইজও করতে পারেন।
সহজে অ্যাক্সেসের জন্য অ্যালামনাইদের তথ্যাদি এক জায়গায় জড়ো করুন। চ্যারিটেবল অ্যালামনাইদের আপনি সেখান থেকে আলাদা করে ফেলুন। কারো অনুদান দেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা সম্পর্কে আপনি যদি অনিশ্চিত থাকেন তবে তাকে প্রথমেই লিস্ট এর বাইরে রাখবেন না, তাদের জন্য অন্য একটি ক্যাটাগরি করে ফেলতে পারেন।

অ্যালামনাইদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখুন

অনেক অ্যালামনাই সদস্য বর্তমানে অনুদান দেওয়ার অবস্থায় নাও থাকতে পারে। অনেকেই হয়তো অন্য কোথাও নিয়মিত অনুদান দিয়ে থাকেন। কাদের কাদের চ্যারিটি দান এর পূর্ব রেকর্ড রয়েছে তাদের দিকে আপনার ফোকাস রাখতে হবে। তারা কীভাবে আপনার প্রতিষ্ঠান বা ক্লাবের ভবিষ্যৎ দাতা হতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
এছাড়া অ্যালামনাইদের আরও ভাল করে জানার জন্য তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সম্পর্কে মৌলিক কিছু তথ্য ডেটাবেসে রাখুন। যেমন: বর্তমান ঠিকানা, ব্যাচ নম্বর, বর্তমান কর্মক্ষেত্র, পদবী, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলস ইত্যাদি। এছাড়া তাদের ব্যাক্তিগত পছন্দের দিকগুলি জেনে রাখুন। অ্যালামনাই সদস্য তার ছাত্রজীবনে কী বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন, সামাজিক সাংস্কৃতিক কোন ক্রিয়াকলাপে অংশ নিয়েছিলেন সে সম্পর্কে তথ্য তাদের বায়োডাটাতে অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে, আপনি তাদের আগ্রহের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট প্রজেক্টে তাদের টার্গেট করে এগিয়ে যেতে পারবেন।
ধরা যাক, আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য স্পর্টস ফান্ড তৈরি করতে চান। এক্ষেত্রে আপনি এমন অ্যালামনাইদের কাছে যাবেন যারা তাদের শিক্ষা জীবনে স্পোর্টস এর সাথে যুক্ত ছিলেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আবেগ এবং আগ্রহের ভিত্তিতে তাদের উপযুক্ত ক্ষেত্র গুলোতে দৃষ্টি আকর্ষণ এর চেষ্টা করুন। তাদেরকে ব্যক্তিগত ইন্টারেস্ট এর ভিত্তিতে এপ্রোচ করলে সাড়া দেয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ডোনেশন এর সক্ষমতা

অন্য একটি সূচক হচ্ছে অর্থনৈতিক সক্ষমতা। অ্যালামনাইদের আর্থিক সক্ষমতা বিষয়ে আপনার ধারণা থাকলে ফান্ড সংগ্রহ করার সময় আপনি বাড়তি সুবিধা পাবেন। যদি আপনার প্রতিষ্ঠানের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী কোনও লাভজনক প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ শুরু করে থাকেন তবে তার ডোনেশনের সম্ভাবনা বেশি থাকবে এটিই স্বাভাবিক। এছাড়া আপনার প্রজেক্ট এর সাথে সংশ্লিষ্ট সেক্টরে কেউ কাজ করলে ফান্ড রেইজিং এর পাশাপাশি আপনাকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতেও সক্ষম হবেন।
ধরা যাক, আপনি শীতার্তদের ত্রাণ দিতে চাচ্ছেন। আর ডাটাবেস থেকে আপনি তথ্য পেলেন অমুক বড় ভাই বড় এক গার্মেন্টেস এর চিফ এক্সিকিউটিভ পদে আছে। সেক্ষেত্রে আপনি কমমূল্যে বা ক্ষেত্রবিশেষে বিনামূল্যেও দরিদ্রদের জন্য শীতবস্ত্র সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু যদি আপনার ডাটাবেসে সেই অ্যালামনাই এর এসকল তথ্য না থাকেন তাহলে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আপনি এটি ব্যবহার করতে পারবেন না।
বর্তমানে, অ্যালামনাই ছাত্ররা তাদের ফেসবুকে বা লিংকডইনে কর্মক্ষেত্র, ক্ষমতার পরিধি ইত্যাদি সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশ করে। তবে, কেউ যদি কার্যনির্বাহী বা অন্য উচ্চ নেতৃত্বের পদে না থাকেন, তবুও তার ব্যক্তিগত রেফারেন্সে মাধ্যমে বড় আকারের সংস্থার সাথে সংযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা থাকতে পারে।

অ্যালামনাই ইভেন্ট এর মাধ্যমে ফান্ড রেইজিং

অ্যালামনাই ইভেন্টগুলিতে সঠিক লোকদের আমন্ত্রণ জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার অ্যালামনাই প্রোগ্রাম এর কাছে যদি ইভেন্টের ক্ষেত্রে ডোনারদের জন্য একটি প্রায়োরিটি তালিকা থাকে তাহলে এর থেকে আপনি দারুণ সুবিধা পাবেন। এই তালিকার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ইভেন্ট সেট আপ করে অ্যালামনাইদের সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়ে ফান্ডিং পেতে পারেন। সেটা হতে পারে শুধু অ্যালামনাইদের জন্য কোন ইভেন্ট যেমন, পুনর্মিলনী বা সাধারন প্রাতিষ্ঠানিক কোন ইভেন্ট যাতে অ্যালামনাইদের উপস্থিতি আপনার প্রতিষ্ঠান ও অ্যালামনাই উভয় পক্ষের মধ্যেই ভালোবাসা ও সম্পর্ককে মজবুত করবে।
ইভেন্টগুলি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ভেন্যু করার চেষ্টা করুন। এমনকি সরাসরি ইভেন্টগুলি সম্ভব না হলে, ভার্চুয়াল ইভেন্টগুলিকেও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে হোস্ট করার চেষ্টা করুন। এটি অ্যালামনাই একত্রিত করতে যেমন কার্যকর হতে পারে তেমনি তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আবেগ বা ভালোবাসা ও নস্টালজিয়াকে কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।
সহজেই ডোনেশনের পরিমাণ দ্বিগুণ করার একটি উপায় হলো আপনার প্রাক্তন ছাত্রদের তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যবসা বা সংস্থায় গিফট ডোনেশন পদ্ধতি তৈরি করতে উৎসাহিত করা। এটি সাধারণত একটি অনলাইন অনুদানের মাধ্যমে শুরু হয়। অ্যালামনাইরা তাদের কোম্পানির কর্মকর্তাদের অনলাইন ইনভাইটেশন পাঠান এবং ইনভাইটেশন গ্রহন করলে সে ডোনেশন করে থাকে।

অ্যালামনাইদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন

কোন অ্যালামনাই প্রথমবার ডোনেশন করার পর তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তাদের একটি আপ টু ডেট তালিকা রাখুন। এছাড়া তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আপনার প্রতিষ্ঠান ভাবমূর্তি তাদের কাছে আরো সুন্দর করে উপস্থাপন করবে। শুধু তাদের থেকে ফান্ড সংগ্রহ করাই নয়, এই যোগাযোগ অ্যালামনাই ও আপনাদের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করবে। আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানে থেকে অনলাইনে একটি প্ল্যাটফর্ম খুলতে পারেন যেখানে ডোনাররা বিভিন্ন প্রকল্প ডোনেশনের অপশন পাবেন।
এছাড়া অ্যালামনাইদের তাদের ডোনেশন এর ফলে কী কী উন্নতি আপনার প্রতিষ্ঠান বা ক্লাব করতে পেরেছে তার খবরাখবর তাদেরকে জানান। এছাড়া আপনার প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন কন্টেন্ট বা পাবলিকেশন তাদেরকে দিতে পারেন। এসকল কন্টেন্ট বা পাবলিকেশন্সে তাদের ক্রেডিট দিন। এতে করে খুশি হবে এবং ভবিষ্যতে আরো ডোনেশনে আগ্রহী হবে।
তাদের অনুদানের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বা কলেজে উপর কী প্রভাব পড়ে তা তাদের দেখান। তারা সঠিক জায়গায় অনুদান করেছে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদেরকে ফান্ডিং ব্যয়ের খাতগুলো দেখান, অডিট নিয়ে পরিষ্কার ধারণা দিন। তাদের অনুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার উপর, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কর্মক্ষমতা এবং কল্যাণে প্রত্যক্ষ এবং উপকারী প্রভাব ফেলেছে এসকল বিষয়ে নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে তারা ডোনেশনে আগ্রহী হবেন। তাদেরকে ধন্যবাদ দেওয়ার মাধ্যমে, তাদের অবদানগুলোকে হাইলাইট করার মাধ্যমে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে পারেন।
ফান্ড রেইজিং এ অ্যালামনাই অনেক নির্ভরযোগ্য একটি উৎস হতে পারে যদি আপনি তাদেরকে সঠিকভাবে উৎসাহিত করতে পারেন। সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠান অ্যালামনাইদের কাছ থেকে সহজেই ফান্ড রেইজিং এর কাজটি চালিয়ে যেতে পারবে।

About Graduate Network

Graduate Network is the vision of some influential alumni, scholars, community leaders from different alumni associations, universities, & organizations for them and for you.